(১)
ঠিক এক মাস। ঠিক এক মাস পর সম্পর্কে বিষাদ এলো। তুলি আজই স্পষ্ট জানালো, সম্ভব নয় কোন সামাজিক বন্ধন। আজই যে প্রথম তা নয়, আগেও কথায় কথায় বলেছে, তবে আজ যেন ওর কথার মধ্যে অন্য কিছু ছিল। সে জেদ নয়, অসহায়তা। এতই গভীর, যাকে কোন ভাবেই ছোঁয়া যায় না। ডিঙিয়ে যাওয়া যায় না। কেতন টলোমলো পায়ে উঠে দাঁড়ালো। সোফায় পড়ে রইলো টেলিফোন। পেছনে টেবিলের ওপর থেকে এখনও মায়া ছড়াচ্ছে প্রিয় লাল ল্যাম্পশেড। তার গায়ে ফ্লোরেসেন্ট অক্ষরে লেখা -উৎসব! ওদের ভালোবাসার স্মারক।
(২)
রাত বাড়ছে। রাশিয়ান ফৌজ ঢুকে পড়েছে খারকিভে। নাগাড়ে চলছে বোম্বিং। লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে জীবন। লক্ষ লক্ষ মানুষের আশা-স্বপ্ন-ভবিষ্যৎ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। সেই ধ্বংসের ছায়াচিত্র দেখতে দেখতে একটা পৈশাচিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে কেতনের শিরায় শিরায়। শুনশান এভেনিউ ধরে সাঁজোয়া গাড়িতে চলে যাওয়া রাশিয়ান ফৌজের মত উল্লাস ওর মনে। বড় ভয় পেল কেতন। নেশার ঘোর...? রিমোটের লাল বটমে সজোরে চাপ দেয় সে । ইউক্রেন মিলিয়ে গিয়ে ঝুপ করে নেমে আসে অন্ধকার।
(৩)
নির্জন বিছানাজুড়ে মানচিত্রের মত ছড়িয়ে রয়েছে তুলি। কখন অজান্তে ঘুমিয়ে পড়েছে। আলোটাও নেভাতে পারেনি আর । বালিশের পাশেই খোলা কবিতার খাতা। পাতাগুলো উড়ে যাচ্ছে পাখার হাওয়ায়। সাদা পালকের মত কবিতারা সব উড়ে বেড়াচ্ছে ঘরময়।
সে এখন স্বপ্ন দেখছে। দেখছে, সব যুদ্ধ থেমে গেছে। কেতন আর ও পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছে লোপান নদীর পাড় ধরে। মাথায় মেপলের মুকুট। যতদূর ওরা হেঁটে যাচ্ছে, ততদূর পর্যন্ত মুছে যাচ্ছে যুদ্ধের সব ক্ষতদাগ। বাড়িঘর - রাস্তাঘাট কোন যাদুছোঁয়ায় আবার সেজে উঠছে প্রাণের কলরবে। পার্কের সবুজ ঘাসে ঘাসে জীবনের নতুন উদ্ভাস। দূরের গীর্জা থেকে ভেসে আসছে প্রার্থনাগীত।
কেতন ওর দিকে তাকায়। বলে, চলো, সময় হয়েছে- চলাচলের চিরন্তন উৎসবে ভেসে যাই আমরা। স্বপ্নের ভেতর থেকে উঠে অপার্থিব এক আলোর আভা ছড়িয়ে পড়ছে তুলির সারা মুখে।
Liked our work ?